Cricket Analysis

ক্রিকেট আম্পায়ারিংয়ে হক-আই কীভাবে বিপ্লব ঘটিয়েছে

আপডেটকৃত
How Hawk-Eye Revolutionized Cricket Umpiring
twitterfacebooklinkedin
ক্রিকেট আম্পায়ারিংয়ে হক-আই কীভাবে বিপ্লব ঘটিয়েছে

আধুনিক ক্রিকেটের উচ্চ-চাপের পরিবেশে একটি সাধারণ ভুল সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফলাফল বদলে দিতে পারে। আগেকার দিনে এলবিডব্লিউ (LBW) সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে আম্পায়ারের অনুমানই ছিল শেষ কথা। কিন্তু বর্তমানে সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে হক-আই (Hawk-Eye)—একটি অত্যাধুনিক বল-ট্র্যাকিং সিস্টেম, যা ক্রিকেটকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করে তুলেছে।

২০০১ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে আইপিএল (IPL) বা আইসিসি বিশ্বকাপের মতো বড় Cricket Tournaments-এ হক-আই এখন একটি অপরিহার্য অংশ।

সূচনা: ল্যাবরেটরি থেকে লর্ডস পর্যন্ত

হক-আই প্রযুক্তির উদ্ভাবক হলেন ডক্টর পল হকিন্স। একজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিশেষজ্ঞ এবং প্রাক্তন ক্রিকেটার হিসেবে তিনি বুঝেছিলেন যে, খালি চোখে ঘণ্টায় ১৫০ কিমি বেগে আসা বলের গতিপথ নির্ভুলভাবে ধরা মানুষের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।

২০০১ সালের মে মাসে লর্ডসে ইংল্যান্ড বনাম পাকিস্তান টেস্ট ম্যাচে প্রথমবার হক-আই টেলিভিশনে প্রদর্শিত হয়। প্রাথমিকভাবে এটি কেবল সম্প্রচারের জন্য ব্যবহৃত হলেও, এর নির্ভুলতা দেখে আইসিসি ২০০৮ সালে একে ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (DRS)-এর অন্তর্ভুক্ত করে।

হক-আই কীভাবে কাজ করে?

হক-আই কেবল একটি ক্যামেরা নয়; এটি কম্পিউটার ভিশন এবং জ্যামিতির এক জটিল সংমিশ্রণ। এর কাজ করার ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:

১. হাই-স্পিড ক্যামেরা ক্যাপচার

আধুনিক Cricket Stadiums-এর ছাদ বা উঁচু স্ট্যান্ডে ৬ থেকে ১০টি হাই-স্পিড ক্যামেরা বসানো থাকে। এই ক্যামেরাগুলো প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০৬-১২০টি ফ্রেম রেকর্ড করতে পারে।

২. ত্রিমাত্রিক ট্রায়াঙ্গুলেশন 

সিস্টেমটি প্রতিটি ক্যামেরা থেকে পাওয়া ২ডি (2D) ছবি বিশ্লেষণ করে। অন্তত দুটি আলাদা কোণ থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে কম্পিউটার বলের সঠিক অবস্থান (x, y, z স্থানাঙ্ক) ত্রিমাত্রিক স্থানে গণনা করে।

৩. প্রেডিক্টিভ পাথ অ্যানালাইসিস

এটি এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বল যখন ব্যাটসম্যানের প্যাডে আঘাত করে, তখন সিস্টেমটি তার আগের গতি, বাউন্স এবং সুইং বিশ্লেষণ করে একটি কাল্পনিক গতিপথ তৈরি করে। এটি দেখায় যে প্যাডে না লাগলে বলটি স্টাম্পে আঘাত করত কি না।

আপনি কি জানেন? হক-আই প্রযুক্তির নির্ভুলতার মার্জিন মাত্র ২.৬ মিমি থেকে ৫ মিমি পর্যন্ত হয়ে থাকে।

ডিআরএস (DRS) এবং আম্পায়ারিংয়ের ওপর প্রভাব

হক-আই আসার পর থেকে মাঠে আম্পায়ারদের ওপর চাপ অনেক কমেছে এবং খেলায় স্বচ্ছতা বেড়েছে। আজকাল Cricket News-এ যেকোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনার সময় হক-আই-এর তথ্যকেই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ধরা হয়।

তুলনা: মানব আম্পায়ার বনাম হক-আই

বৈশিষ্ট্যফিল্ড আম্পায়ারহক-আই প্রযুক্তি
প্রতিক্রিয়া সময়~০.২ সেকেন্ডমাইক্রোসেকেন্ড
অ্যাঙ্গেল বা দৃষ্টিভঙ্গিকেবল স্টাম্পের পেছন থেকে৩৬০-ডিগ্রি মাল্টি-অ্যাঙ্গেল
এলবিডব্লিউ পূর্বাভাসঅভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেবিজ্ঞানের ওপর ভিত্তি করে
ধারাবাহিকতামানসিক চাপের কারণে ভুল হতে পারেসর্বদা ১০০% লজিক্যাল

নির্ভুলতা এবং "আম্পায়ারস কল" (Umpire's Call)

এত উন্নত হওয়া সত্ত্বেও হক-আই পুরোপুরি নির্ভুল নয়, যার কারণে ক্রিকেটে আম্পায়ারস কল নিয়মটি রয়ে গেছে।

  • ৫০% নিয়ম: যদি বলের অর্ধেকের কম অংশ স্টম্পে আঘাত করার সম্ভাবনা থাকে, তবে সিস্টেমটি মাঠের আম্পায়ারের মূল সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখে।
  • ট্যাপ খাওয়ার দূরত্ব: বল যদি পিচে ট্যাপ খাওয়ার সাথে সাথেই প্যাডে লাগে, তবে সিস্টেমের কাছে তথ্য কম থাকে, যা সামান্য ভুলের সুযোগ তৈরি করে।

আপনি যদি এই প্রযুক্তির বাস্তব উদাহরণ দেখতে চান, তবে আমাদের Cricket Video Gallery-তে গিয়ে ঐতিহাসিক কিছু ডিআরএস সিদ্ধান্তের ভিডিও দেখে নিতে পারেন।

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. হক-আই কি ১০০% সঠিক?

এটি অত্যন্ত নির্ভুল হলেও এর সামান্য গাণিতিক মার্জিন অফ এরর (Margin of Error) থাকে। এই কারণেই 'আম্পায়ারস কল' নিয়মটি ব্যবহার করা হয়।

২. হক-আই কি বাতাসের গতি বা পিচের ফাটল পরিমাপ করে?

হক-আই বল প্যাডে আঘাত করার মুহূর্ত পর্যন্ত তার আচরণ ট্র্যাক করে। এটি কাল্পনিক কোনো কিছুর ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত দেয় না, বরং বলের বাস্তব গতির ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ পথ দেখায়।

৩. হক-আই-এর মালিকানা কার কাছে?

বর্তমানে হক-আই ইনোভেশনস হচ্ছে সনি (Sony)-এর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান।

৪. আম্পায়ার কি হক-আই ছাড়া সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না?

অবশ্যই পারেন। আম্পায়ার প্রথমে সিদ্ধান্ত দেন, আর যদি কোনো দল সেই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয়, তবেই কেবল হক-আই প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হয়।

মূল আকর্ষণ 

  • উদ্ভাবন: ২০০১ সালে ডক্টর পল হকিন্স এটি তৈরি করেন।
  • কার্যপদ্ধতি: ৬টির বেশি হাই-স্পিড ক্যামেরা এবং ৩ডি ম্যাপিং ব্যবহার করে।
  • গুরুত্ব: এলবিডব্লিউ এবং বল-ট্র্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক স্বচ্ছতা এনেছে।
  • সীমাবদ্ধতা: যান্ত্রিক ত্রুটি এড়াতে 'আম্পায়ারস কল' বজায় রাখা হয়েছে।

সারসংক্ষেপ 

হক-আই (Hawk-Eye) হলো একটি কম্পিউটার-ভিশন সিস্টেম যা হাই-স্পিড ক্যামেরার সাহায্যে ক্রিকেটে বলের গতিপথ ট্র্যাক করে। এটি ৩ডি ট্রায়াঙ্গুলেশন এবং পদার্থবিদ্যার সূত্র ব্যবহার করে এলবিডব্লিউ সিদ্ধান্তের সঠিকতা নিশ্চিত করে, যা আধুনিক ক্রিকেটের ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (DRS)-কে আরও স্বচ্ছ ও নিখুঁত করে তুলেছে।

ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি সম্পর্কে আরও জানুন

আপনি কি জানতে চান কীভাবে ডেটা এবং ইনোভেশন আধুনিক ক্রিকেটকে বদলে দিচ্ছে? ক্রিকেটের গভীর বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তিগত তথ্য জানতে Cric Predictor-এ আমাদের অন্যান্য আর্টিকেলগুলো পড়ুন।

melbet
প্রথম ডিপোজিটে মেলবেট থেকে ২০,০০০ টাকা পর্যন্ত বোনাস
paripulse
প্রথম জমার বোনাস ৩০০% পর্যন্ত ₹২৫,০০০
Pari Match
₹10,000 পর্যন্ত 250% + ₹150 ফ্রি বেট