আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হাই-ভোল্টেজ মঞ্চে সেঞ্চুরি করা যেকোনো ব্যাটসম্যানের জন্যই এক স্বপ্নের মাইলফলক। তবে কিছু ক্রিকেটার কেবল তিন অঙ্কের ঘরেই পৌঁছাননি, বরং বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে চুরমার করেছেন একাধিক রেকর্ড। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির (Fastest Century in T20 World Cup) এই লড়াই ক্রিকেট বিশ্বকে বারবার রোমাঞ্চিত করেছে।
২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও এই রেকর্ডগুলো আধুনিক ক্রিকেটের "প্রথম বল থেকেই আক্রমণ" করার দর্শনের সাক্ষ্য দিচ্ছে। Cric Predictor-এর এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসের দ্রুততম শতরানগুলোর বিস্তারিত পরিসংখ্যান নিয়ে আলোচনা করব। বিভিন্ন ক্রিকেট টুর্নামেন্ট (Cricket Tournaments)-এর তথ্য অনুযায়ী এখানে সেরা ১০টি ইনিংসের তালিকা দেওয়া হলো।
১. রেকর্ড হোল্ডার: ক্রিস গেইলের ৪৭ বলের তান্ডব
২. টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের দ্রুততম ১০টি সেঞ্চুরি
৩. সেরা পারফরম্যান্সগুলোর ওপর গভীর আলোকপাত
৪. বিশেষজ্ঞের মতামত: গেইলের রেকর্ড ভাঙা কেন কঠিন?
৫. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQs)
"ইউনিভার্স বস" ক্রিস গেইল পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির অপ্রতিদ্বন্দ্বী মালিক। ২০১৬ সালের আসরে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর স্টিম রোলার চালিয়ে মাত্র ৪৭ বলে শতক পূর্ণ করেছিলেন তিনি।
তার সেই ইনিংসে ছিল ১১টি বিশাল ছক্কা এবং ৫টি চারের মার। গেইলের এই অতিমানবীয় ব্যাটিং কেবল রেকর্ডই গড়েনি, বরং ওয়েস্ট ইন্ডিজকে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে বড় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।
নিচে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম গতির ১০টি সেঞ্চুরির তালিকা দেওয়া হলো:
| র্যাঙ্ক | খেলোয়াড় | বল | প্রতিপক্ষ | ভেন্যু | সাল |
|---|---|---|---|---|---|
| ১ | ক্রিস গেইল | ৪৭ | ইংল্যান্ড | মুম্বাই | ২০১৬ |
| ২ | ক্রিস গেইল | ৫০ | দক্ষিণ আফ্রিকা | জোহানেসবার্গ | ২০০৭ |
| ৩ | ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম | ৫১ | বাংলাদেশ | ক্যান্ডি | ২০১২ |
| ৪ | রাইলি রুশো | ৫২ | বাংলাদেশ | সিডনি | ২০২২ |
| ৫ | আহমেদ শেহজাদ | ৫৮ | বাংলাদেশ | ঢাকা | ২০১৪ |
| ৬ | সুরেশ রায়না | ৫৯ | দক্ষিণ আফ্রিকা | সেন্ট লুসিয়া | ২০১০ |
| ৭ | অ্যালেক্স হেলস | ৬০ | শ্রীলঙ্কা | চট্টগ্রাম | ২০১৪ |
| ৮ | তামিম ইকবাল | ৬০ | ওমান | ধর্মশালা | ২০১৬ |
| ৯ | গ্লেন ফিলিপস | ৬১ | শ্রীলঙ্কা | সিডনি | ২০২২ |
| ১০ | জস বাটলার | ৬৭ | শ্রীলঙ্কা | শারজাহ | ২০২১ |
সরাসরি উত্তর: পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরিটি করেছেন ক্রিস গেইল, মাত্র ৪৭ বলে (২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে)। তালিকায় দ্বিতীয় দ্রুততম রেকর্ডটিও (৫০ বল) তার দখলে।
গেইল একমাত্র ক্রিকেটার যিনি এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দুটি সেঞ্চুরি করেছেন। ২০০৭ সালের উদ্বোধনী ম্যাচে তার ৫০ বলের সেঞ্চুরিটি ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম শতরান। ৯ বছর পর তিনি নিজেই নিজের সেই রেকর্ড ভেঙে দেন।
২০১২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাককুলামের ১২৩ রানের ইনিংসটি ছিল টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের এক মাস্টারক্লাস। এটি এখনও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর (Highest Individual Score) হিসেবে বিবেচিত।
সিডনির ঐতিহাসিক মাঠে (যা বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেট স্টেডিয়াম (Cricket Stadiums)), রুশো ২০২২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাত্র ৫২ বলে সেঞ্চুরি করেন। আধুনিক পাওয়ার-হিটিংয়ের এটি একটি উজ্জ্বল উদাহরণ।
Cric Predictor-এর বিশ্লেষকদের মতে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মঞ্চে দ্রুততম সেঞ্চুরি করা দ্বিপাক্ষিক সিরিজের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন:
ক্রিস গেইলের ৪৭ বলের রেকর্ডটি প্রায় এক দশক ধরে টিকে আছে, যা প্রমাণ করে এই মাইলফলকে পৌঁছানো কতটা কঠিন।
প্রশ্ন ১: ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্রুততম সেঞ্চুরি কার?
উত্তর: সুরেশ রায়না ভারতের হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি করেছেন। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিনি ৫৯ বলে এই কীর্তি গড়েন।
প্রশ্ন ২: ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কি কেউ সেঞ্চুরি করেছে?
উত্তর: না, ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে কোনো ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরি করতে পারেননি। নিকোলাস পুরান সর্বোচ্চ ৯৮ রান করেছিলেন।
প্রশ্ন ৩: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম সেঞ্চুরি কার?
উত্তর: ক্রিস গেইল ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরিটি করেন।
প্রশ্ন ৪: ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম কত বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন?
উত্তর: ২০১২ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনি মাত্র ৫১ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন।
প্রশ্ন ৫: ২০২৬ সালেও কি ক্রিস গেইলের রেকর্ড অক্ষুণ্ণ আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্রিস গেইলের ৪৭ বলের সেঞ্চুরিটিই এখনও ইতিহাসের দ্রুততম।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দ্রুততম সেঞ্চুরি শুধুমাত্র একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি বৈশ্বিক মঞ্চে একজন ব্যাটসম্যানের অসামান্য আধিপত্যের প্রতীক। ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে নতুন অনেক তারকা ক্রিকেটার উঠে আসলেও গেইলের রেকর্ডটি আজও ব্যাটসম্যানদের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।
ক্রিকেটের আরও গভীর পরিসংখ্যান এবং ইন-ডেপথ বিশ্লেষণের জন্য ভিজিট করুন CricPredictor.com।